Infinix Note 60 Pro vs Redmi Note 13: Which One is Better in 2026?

বাজেট স্মার্টফোন কিনতে চান? অথচ তার লুকিং হবে ফ্ল্যাগশিপের মতন? কিন্তু একটা কথা বলি, বাজেট শুধু দেখলে চলবে না সেক্ষেত্রে তুলনা করে দেখতে হবে কোন ফোনটি বাজেট ফোন হওয়া সত্ত্বেও ভালো ভালো ফিচার দিচ্ছে, ক্যামেরা পারফরম ভালো মানের, ব্যাটারি শক্তিশালী কিনা। এইসব পাওয়া গেলে তবেই আপনার পকেট বাজেট ও স্মার্টফোনের বাজেটের তুলনা মিলে একাকার হয়ে যাবে। তাই শুধু বাজেট ফোন কিনলেই হবে না, দেখতে হবে তার ফিচার, ডিজাইন, পারফরম্যান্স আরও অনেক কিছু। আজকে আলোচনা করবো কোন বাজেট ফোনটা আপনার জন্য সত্য়ি সত্য়িই স্মার্ট বাজেটের হবে। Infinix Note 60 Pro vs Redmi Note 13 – Which One is Better? কোনটা বেটার পারফরম করে এবং budget smartphone comparison করে দেখাবো একটা বাজেট স্মার্টফোনের কি কি গুণ এই দুইয়ের মধ্যে কার কোনটা আছে। তুলনা হবে জমাজমাট। Gaget 60 এর মোবাইল রিভিউ প্রতিবেদনে আপনাকে স্বাগত।

Design & Build Quality Comparison

design and look comparison নিয়ে ইউজারদের যে যে পয়েন্টগুলো ভালো লাগে, সেইসব নিয়ে সরাসরি আলোচনায় আসা যাক।

ইনফিনিক্স নোট 60 প্রো স্মার্টফোনটি প্রিমিয়াম মিড রেঞ্জে যাতে ইউজাররা একটা ফ্ল্যাগশিপ লেভেলের মর্যাদা অনুভব করতে পারবেন সেই কথা মাথায় রেখে তৈরি করা হয়েছে এর সমস্ত ডিজাইনটা। কম দামে এত সুন্দর অভিজ্ঞতা সত্যিই ইউজারদের কাছে একটা বড়ো পাওনা হতে পারে। ইনিফিনিক্স নোট 60 প্রো প্রায় 6.39 ইঞ্চি লম্বার একটি স্মার্টফোন। চওড়াতে 3.04 ইঞ্চি এবং 0.29 ইঞ্চি পুরু মানে একদম স্লিম ফোন পকেটে নিয়ে বেরোলে হালকা লাগবে। অন্য়দিকে রেডমি নোট 13 ফোনটি typical mid range এর ফোন। ঠিক প্রিমিয়ামও নয় এবং খুব খারাপ পারফরম্যান্সের ফোনও নয়। এই ফোনের স্ক্রিনটা সোজা ও Flat টাইপের curved নয়। লম্বাতে রেডমি নোট 6.34 ইঞ্চি আর চওড়াতে 2.95 ইঞ্চি এবং 0.30 ইঞ্চি পুরু। এটা একটা নরম্যাল যেমনটি হয় একটা স্মার্টফোন কিন্তু স্লিম পকেটে হালকাই মনে হবে। রেডমি নোট 13 যেহেতু 21 হাজারের মধ্যে পাওয়া যাচ্ছে তাই এই একটা মিড রেঞ্জের বাজেট ফোন ফ্ল্য়াগশিপ মানের নয় ইনফিনিক্স নোট 60 প্রো এর মতো।

ফোনের বডিটি খুবই শক্ত অ্যালুমিনিয়াম ধাতু দিয়ে তৈরি। বেশিরভাগ ফোনের বডিই অ্য়ালুমিনিয়াম দিয়ে তৈরি হয়ে থাকে কারণ এতে জং ধরে না আর বিদ্যুৎ ভালো ভাবে যাওয়া আসা করতে পারে এবং শক্তও বটে। ইনিফিনিক্স নোট 60 প্রো তে বিমানের মতো 360 ডিগ্রি Aerospace grade অ্যালুমিনিয়াম ফ্রেম ব্যবহৃত হয়েছে। ফোনের চারপাশেই এই ফ্রেমটা ধরানো হয়েছে। অপরদিকে রেডমি নোট 13 এ প্ল্যাস্টিকের ফ্রেম রয়েছে কিন্তু matte finish করা যা চকচকে নয় (non glossy), বরং স্মুথ, প্ল্যাস্টিক হলেও স্লিপ কাটবে না হাতে ধরতে গেলে। তাহলে Infinix Note 60 Pro ফোনের বডি অনেকটাই শক্তিশালী আর মজবুত তার তুলনায় রেডমি নোট 13 ফোনের বডিও মজবুত যেহেতু এটা পলিকার্বনোট প্ল্যাস্টিক ব্যবহার করা হয়েছে। কিন্তু যেহেতু তুলনা প্রসঙ্গে Infinix Note 60 Pro vs Redmi Note 13 আমরা আলোচনা করছি তাই কমপেয়ার করলে দুজনের মধ্যে ইনফিনিক্স নোট 60 প্রো এর বডি বেশি শক্তপোক্ত আর মজবুত তাতে সন্দেহ নেই

Display Comparison

Infinix Note 60 Pro এর ডিসপ্লেতে তে Active Matric Display আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার হয়েছে। ডিসপ্লে মানে তো অনেকগুলি পিক্সেলের সমষ্টি যাতে আলো তৈরি হয়। সেই পিক্সেলে খুব পাতলা স্তরের ট্রান্সজিসটর লাগানো থাকে। এই ট্রান্সজিসটরগুলোই ঠিক করে স্ক্রিনে কখন আলো জ্বলবে কখন বন্ধ হবে তার ফলে আমরা স্ক্রিনে যখন সুইজ অন করি তখন বিভিন্ন রিফ্রেশ রেটে স্ক্রিনের কালার পরিবর্তন হয়ে যায় অনবরত এই প্রসেস চলতে থাকে। স্ক্রিনের ব্রাইটনেস অনেক বৃদ্ধি পায় আপনি কন্ট্রোলও করেও নিতে পারেন নিজে। 1.5K রেজোলিউশনের AMOLED 6.78 ইঞ্চির ডিসপ্লে যাতে 144 হার্টজ রিফ্রেশ রেটে স্ক্রলিং খুব তেজ হয়। Redmi Note 13 তে 6.67 ইঞ্চির AMOLED  প্যানেল আছে। ডিসপ্লে স্ক্রিন অনেকটা জুড়ে মানে Bezel বা চারিপাশের বর্ডার কম আছে। ডিসপ্লেতে ফ্রন্ট ক্যামেরা বসানোর জন্য ছোটো আকারের Punch hole যা এতটাই ছোটো চোখে আসবে না। স্ক্রিনের ব্রাইটনেস ও আলো কম্বিনেশন ঠিকভাবে দেখানোর জন্য় ডিসপ্লের নীচে ambient light sensor রাখা হয়েছে। Infinix Note 60 Pro vs Redmi Note 13 এর ডিসপ্লে Comparison এ ইনফিনিক্স অনেকটা এগিয়ে আর রেডমি নোট 13 একটু পিছিয়ে আছে (Between comapre)। ডিসপ্লে বেশি পরিষ্কার এবং স্মুথ ইনফিনিক্সের কিন্তু কালার কম্বিনেশন ভালো রেডমির।

ডিসপ্লের উপরে ইনফিনিক্স নোট 60 প্রো এর রয়েছে কর্নিং আমেরিকা কোম্পানির Corning Gorilla Glass 7i। ডিসপ্লে প্রোটেকশন দারুণভাবে মজবুত সহজে ক্ষতি হওয়ার সম্ভাবনা নেই। ডিসপ্লের চারপাশটা ঘিরে অ্যালুমিনিয়ামের ফ্রেম এবং পেছনের পুরোটাই অ্যালুমিনিয়ামের বডি। কিন্তু রেডমি নোট 13 এ গরিলা গ্লাস 5 রয়েছে এবং ফোনের পেছনে অনেকগুলি পাতলা প্ল্যাস্টিকের লেয়ার দিয়ে মজবুত বানানো হয়েছে। একটা লেয়ার হচ্ছে matte finish যেটা চকচকে নয় দ্বিতীয় লেয়ারটা হলো শক্ত প্ল্যাস্টিক আর নীচে আছে পাতলা রঙের স্তর যাতে ফোনটি সুন্দর দেখায়। আসলে ইনফিনিক্সের ডিসপ্লে প্রোটেকশন উচ্চ মানের বডি যার ডিসপ্লেতে ধাতব ফ্রেম রয়েছে কিন্তু রেডমিতে প্ল্যাস্টিকের মাল্টি লেয়ার রয়েছে তবে মজবুত লেয়ারগুলি, সাথে গরিলা গ্লাস 5 আছে। তাই ইনফিনিক্সের ডিসপ্লে একটু বেশি স্ট্রং বলে মনে হয়।

Camera Performance Comparison

ক্য়ামেরা পারফরম্য়ান্স একটা স্মার্টফোনের উল্লেখযোগ্য বিষয়। আজকের ক্যামেরার বিষয় হলো Infinix Note 60 Pro vs Redmi Note 13। আসুন দেখা যাক, ফোন দুটির ক্যামেরা পারফরম্যান্স কেমন, আপনারা যদি দুটো ফোনের মধ্যে যে কোনটা সংগ্রহ করতে চান তাহলে এই প্রতিবেদনের এই টপিকটা খুবই প্রয়োজনীয় হবে।

Also Read: Oppo Reno 6 vs OnePlus Nord 2 – দুই ফোনের মধ্যে সেরা কে?

Daylight Photography

ইনফিনিক্ম প্রো মোবাইলটিতে 50 মেগাপিক্সেলের সেন্সর থাকায় day light ফটো তোলার জন্য আদর্শ হবে। ছবি ডিটেইলযুক্ত, পরিষ্কার ও দূরের বিল্ডিং এমনকি ল্যাণ্ডস্কেপ ছবিতেও শার্পনেস যথেষ্ট। অ্যাপারচার মাত্রা f/1.59  হওয়ায় দিনের আলোতে বেশি ব্রাইট ছবি ও ন্যাচারাল দেখায় এবং সবচেয়ে বড়ো বিষয় হলো HDR – হাই ডায়নামিক রেঞ্জ থাকার কারণে সূর্যোর আলোতেও ছবি Unnatural লাগে না। রেডমির মেইন ক্য়ামেরাতে 108 মেগাপিক্সেলের প্রাইমারী সেন্সর থাকার জন্য Day light দারুণ ভালো ডিটেইল ছবিতে দেখা যায়। জুমেও এর কোয়ালিটি কম হয়ে যায় না আবার ক্রপ করলেও ছবির কোয়ালিটি ড্রপ হয় না। এই ক্যামেরা দিয়ে ছবি তুলে প্রিন্ট করলে এর রেজোলিউশনের তফাৎ হয় না, কোয়ালিটি একই থাকে। কিন্তু এটাও বলা যায় অনেক সময় 108 মেগাপিক্সেল কাজ করে না পিক্সেল বাইনিং করে কাজ হয়ে থাকে। আবার কিছু AI ফিচারের ভূমিকা থাকে ছবিকে সুন্দর দেখানোর ক্ষেত্রে, ব্রাইট করার জন্য। f/1.7 অ্যাপারচার ভ্যালুর জন্য় ক্যামেরা সেন্সরে এমনিতেই আলো থাকে এবং Day light এর আলোতে ব্যালান্সড করে ছবিকে শার্প ও ডিটেইলময় করে দেয়, ন্য়াচারাল করে। 3x in sensor অপটিক্যাল zoom দূরের ছবি জুম করলেও স্পষ্ট। কোয়ালিটি নষ্ট হয় না।

Infinix Note 60 Pro vs Redmi Note 13 তে ক্যামেরা পারফরম্য়ান্সে দুই ফোনের Day light ফটোগ্রাফি পারফরম্যান্সে রেডমি নোট 13 বেশি এগিয়ে।

Low Light Camera Test Comparison

50 মেগাপিক্সেল সেন্সর মেইন ক্যামেরায় low light থাকলে আর তখন ক্যামেরার সাটার স্পীড স্লো থাকে তাই ছবি ব্লার আসতে পারে। কিন্তু ইনফিনিক্স নোট 60 প্রো তে যেহেতু OIS সিস্টেম রয়েছে তার জন্য় সাটার স্পীড স্লো হলেও লো লাইটে ছবি পরিষ্কার আসে। যদি OIS না থাকতো তাহলে ক্যামেরা ধরার সময় হাত স্টেডি রাখতে হবে নড়লে সড়লে চলবে না। রেডমি নোট 13 এ যেহেতু OIS অপটিক্যাল ইমেজ স্টেবিলাইজেশন নাই তাই ছবি ব্লার হবে। কিন্তু এই ফোনে অ্যাপারচার যেহেতু বড়ো f/1.7 এবং নাইট মোডে সফটওয়্যার প্রসেসিং আছে বলে Low light হলেও ছবি এডিট করে ব্লার কমিয়ে দেয়, ছবি ভালো করে দেয়।

রেডমি নোট 13 এ 108 মেগাপিক্সেলের সেন্সর থাকা সত্ত্বেও যেহেতু ডিফল্টে মাত্র 12মেগাপিক্সেল থাকে বাকিটা পিক্সেল বাইনিং করে ছবি দেয় তাই বড়ো প্রাইমারী সেন্সর থাকলেও লো লাইটে সফটওয়্যার ছাড়া ছবি প্রসেসিং করতে পারে না। তাই ইনফিনিক্সে 50 মেগাপিক্সেলের মতো লো লাইটে অতটা ভালো ছবি দিতে পারবে না।

Portrait & Selfie Camera Comparison

বেশিরভাগ মানুষ তাদের নিজের স্মার্টফোনে সেলফি ক্যামেরাতে ছবি এবং পোর্টরেট ছবি তুলতেই বেশি ভালোবাসেন। এখন যেহেতু সোশ্যাল মিডিয়ার যুগ তাই অল্প সময়ের মধ্যে পোর্টরেট ছবি এবং সেটা সেলফি ক্যামেরাতে নিজেরাই তুলে ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম সহ বিভিন্ন সোশ্যাল মিডিয়া রেডি ছবি বানিয়ে কিছু AI এফেক্ট দিয়ে পোষ্ট করে দেওয়া রোজকার রুটিন। যেহেতু পোর্টরেট ছবি তাই ব্যাকগ্রাউণ্ড না দেখিয়ে শুধুমাত্র নিজেকেই দেখানো একটা স্টাইলিং লুক দিতে পারলেই হলো। অমনি সোশ্যাল মিডিয়ায় কমেন্টের ঝড়, ম্যাসেজ এগুলো তো কমন আজকের দিনে।

ইনফিনিক্স নোট প্রোতে সেলফি ক্যামেরা 13মেগাপিক্সেলের এবং অ্যাপারচারও ছোটো f/2.2 থাকায় পোর্টরেট ছবি কিছু ভদ্র সভ্য দেখায়, কিন্তু ব্যাকগ্রাউণ্ড ব্লার ভালোভাবে করতে পারে না। edge selection ভালো হবে না,  AI সফটওয়্যার দিয়ে ব্লার করতে হয়। যেহেতু 108ডিগ্রি ফিল্ড অফ ভিউ আছে তাই অনেক দূর পর্যন্ত ছবি না উঠলেও সেলফির জন্য ভালো এবং পর্যাপ্ত। রেডমি নোটে 16মেগাপিক্সেলের সেলফি ক্যামেরা থাকে বলে পোর্টরেটে ফেসের স্কিন ডিটেইলস ভালো লাগে। ওয়াইড লেন্সের জন্য গ্রুপ পোর্টরেট ছবি সম্ভব হয়। কিন্তু অ্যাপারচার কম f/2.4 থাকায় পোর্টরেট ব্লার ভালো হয় না। AI করা মনে হয় ন্য়াচারাল কম লাগে। এককথায় বলতে গেলে, দুই মোবাইলের মধ্যে (Infinix Note 60 Pro vs Redmi Note 13) রেডমির পোর্টরেট ছবি ভালো DSLR এর মতো লাগতে পারে। ন্য়াচারাল পোর্টরেটে ইনফিনিক্স মোবাইলের সেলফি ক্যামেরা ভালো।

Ultra-Wide Camera

Infinix Note 60 Pro ফোনে 8 মেগাপিক্সেলের আল্ট্রা ওয়াইড ক্যামেরা রয়েছে। মেইন ক্যামেরার সাথে আল্ট্রা ওয়াইড থাকাটা দারুণ একটা সুবিধা। 111.4 ডিগ্রি FOV (Field of View) অনেকখানি জায়গা নিয়ে বড়ো ছবি, ভ্লগিং এ পাশে অনেকটা জায়গা দেখাতে পারা যাবে। আপনি কোথায় ভ্রমণ করতে গেলেন সেখানে পরিবারের সবাই মিলে গ্রুপ ফটো তুলতে পারবেন। তাছাড়াও সমুদ্রের আশেপাশে অনেকটা বিস্তৃত জায়গার ছবি নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়া, হোয়াটস অ্যাপ শেয়ার করতে পারবেন। আল্ট্রা ওয়াইড ছাড়া এগুলো সম্ভব হবে না। বিশেষ করে OIS প্রযুক্তি সাপোর্ট থাকলে আরও সুন্দর গ্রুপ ছবি, সমুদ্রের ধারে শুটিং ভিডিও রেকর্ডিং সবই সম্ভবপর। Redmi Note 13 তে 8মেগাপিক্সেলের সেকেণ্ডারী আল্ট্রা ওয়াইড ক্যামেরা ভালো ছবি তবে ডে লাইটে শুধু ভালো ছবি, লো লাইটে ঠিক আসবে না। ভিডিও এর ক্ষেত্রে ফুল এইচডি (1080পিক্সেল)। Field of View 120 ডিগ্রি, অনেকটা ভিউ একেবারে চলে আসবে। রুমের ভিতরে আপনি ক্যামেরাতে আল্ট্রা ওয়াইড ভিউ করে ভিতরের সমস্তটা দেখাতে পারবেন।

দুটো ফোনেই (Infinix Note 60 Pro vs Redmi Note 13) আল্ট্রা ওয়াইড ক্যামেরা জবরদস্ত। কিন্তু কিছু অসুবিধাও আছে যেটা হলো বড়ো ছবিতে কিছু Distortion আসতে পারে, Edge ডিটেইল কম লাগবে দেখে। আল্ট্রা ওয়াইড ক্যামেরায় বিচার করলে রেডমি নোট 13 একটু এগিয়ে। এতে Show off বা কালারফুল লুকসের জন্য় ইনফিনিক্স নোট 60 প্রো এগিয়ে আর ন্য়াচারাল ও শার্পের দিকে গেলে রেডমি নোট 13 আল্ট্রাওয়াইডে এগিয়ে থাকবে।

আরও পড়ুন: iPhone 18 Pro Max: Expected Specifications, Features, Camera & Price

Performance & Gaming Comparison

ইনফিনিক্স মোবাইলটির AnTuTu Benchmark V11 এর রেজাল্ট প্রায় 10 লাখ। যা হলো সিপিএউ টেস্ট, জিপিইউ টেস্ট, RAM পারফরম্যান্স চেক সর্বোপরি ইউজার এক্সপেরিয়েন্সের উপর নির্ভর করে স্কোর দেওয়া হয়। এর স্কোর প্রায় 10 লাখ অর্থাৎ হালকা গেমিং এর দিক থেকে ইউজারের ভালো অভিজ্ঞতা হবে। অন্যদিকে রেডমির AnTuTu Benchmark V9 ও  V10 এর রেজাল্ট প্রায় 4 লক্ষের বেশি যেখানে পারফরম্যান্স বলুন ও গেমিং সবকিছুই মোটামুটি ও গড়পড়তা মানের।

গিকবেঞ্চে (V5) ইনফিনিক্সের সিঙ্গল স্কোর হলো প্রায় 1200, আর মাল্টিস্কোর প্রায় 3,300। যেখানে মাল্টিটাস্কিং এর জন্য খুব ভালো পারফরম্যান্স বলা যাচ্ছে।  রেডমির গিকবেঞ্চের (V5 ) স্কোর প্রায় 1968 আর V6 নতুন ভার্সনের স্কোর 1978। এই স্কোরে বোঝা যাচ্ছে এখানে সিপিইউ পারফরম্যান্স খুব ভালো, মাল্টিটাস্কিং ভালো, গেমিং অ্যাভারেজ মানের হবে। আর ইনফিনিক্সের গিকবেঞ্চের ফল মাঝারি মানের।

ইনফিনিক্সে পাওয়ারফুল স্ন্যাপড্রাগনের 7s জেনারেশন 4 এর প্রসেসর এবং 120 FPS ফ্রেম রেটের জন্য় জনপ্রিয় COD মোবাইল গেম ভালো চলবে কিন্তু বেশিক্ষণ ধরে গেম খেললে FPS ড্রপ হতে পারে। রেডমিতে অনলাইন গেমস (যেমন, PUBG, COD) খেললে পারফরম্য়ান্স ঠিকই আছে কিন্তু ভারী গেম খেললে লো সেটিংসে খেলতে হবে নাহলে FPS ড্রপ করতে পারে। আর খুব বেশি সময় গেম খেললে হালকা হিট হয়ে যাবে ফোন।

Battery Backup & Charging

ইনফিনিক্সের ব্য়াটারি 6500mAh বেশ বড়ো ব্যাটারি রয়েছে। যারা সারাক্ষণ ধরে ফোন ঘাঁটে, গেমিং করে ও ভিডিও দেখে তাদের জন্য ভালো হবে। COD, PUBG এর মতো গেম খেললে 5 থেকে 7 ঘন্টা দেবে। আর বেশি বড়ো গেমে ব্যাটারি ড্রেন হতে পারে। সাধারণ ফোনের চেয়ে ব্যাটারি ব্যাক আপ প্রায় 40% বেশি দিতে পারে। 90 ওয়াটের চার্জিং ক্যাপাসিটি বলে 50% চার্জ 15 মিনিটের মধ্যেই সম্পন্ন হবে। আর 100% আধ ঘন্টার মধ্যেই কমপ্লিট করে দেবে ফোনটি। রেডমিতে রয়েছে লিথিয়াম পলিমার 5000mAh এর ব্য়াটারি। COD, PUBG এর মতো গেমের জন্য 4 থেকে 6 ঘন্টা। বেশি গরম হলে ফোনের পারফরম্য়ান্স ড্রপ হবে। ডেইলি ব্যবহারের জন্য ঠিক আছে। 33 ওয়াটের চার্জিং ক্যাপাসিটি তাতে, 50% চার্জ প্রায় আধ ঘন্টা এবং 100% হতে প্রায় 1 ঘন্টা সময় লাগবে।

সিদ্ধান্ত হলো (Infinix Note 60 Pro vs Redmi Note 13) ইনফিনিক্স নোট 60 প্রো ফোনটি গেমিং এর ক্ষেত্রে অনেকক্ষণ ধরে চলতে পারে প্রায় 10ঘন্টা ধরে সম্ভব এবং 90ওয়াটের চার্জার বলে দ্রুত চার্জ হতে পারে। আবার রেডমি নোট 13 এর ফোনটি প্রতিদিন ব্য়বহারের ক্ষেত্রে ভালো।

Price & Value for Money

বর্তমানে ইনফিনিক্স নোট 60 প্রো এর রিসেন্ট 2026 সালে 13 এপ্রিল লঞ্চ হওয়া ফোনের দাম 8জিবি ও 256জিবি মিড ভ্যারায়ান্টের ₹৩৪,৯৯৯। ব্যাঙ্কের মাধ্যমে নিলে আরও 3000টাকা ডিসকাউন্ট পাওয়া যেতে পারে।

রেডমি নোট 13 এর বর্তমানে দাম 8জিবি ও 256জিবি মিড ভ্যারায়ান্টের ₹১৯,৯৯৯। অ্যামাজনে চেক করে নেবেন একবার। অনেক সময় কিছু কম বেশি হয়ে থাকে।

দামের দিক থেকে Infinix Note 60 Pro vs Redmi Note 13 বিচার করলে ইনফিনিক্স নোট 60 প্রো ফোনটি রেডমি নোট 13 এর চেয়ে বেটার অপশন হতে পারে কারণ, ব্যাঙ্ক ডিসকাউন্টসহ এত কম দামে আবার ফ্ল্যাগশিপের কাছাকাছি অভিজ্ঞতা পাওয়া কম ব্যাপার নয়। তাছাড়াও ইনফিনিক্স ব্যাটারি ও পারফরম্যান্সের দিক থেকে রেডমির চেয়ে অনেকটাই এগিয়ে। দামের দিকে মিড বাজেট ফোন হওয়া সত্ত্বেও এতগুলো ফিচার আপডেট তাই Value for Money এর দিক থেকে ইনফিনিক্স নোট 60 প্রো কেই এগিয়ে রাখবো। আপনাদের মতামত কি জানাবেন।

Pros and Cons

Pros

  1. Infinix Note 60 Pro তে 6.78 ইঞ্চির 1.5K AMOLED Display থাকায় ভিডিও ছবি বেশি ঝকঝকে। সব রঙ দারুণ শার্পভাবে প্রতীয়মান থাকে বেশি কালো রঙ অ্যাভোয়েড করে যাতে ইউজাররা অসন্তুষ্ট না হন বা বোর লাগে তাই ডিপ ব্ল্যাক অফ রাখে। গেমিং বেশি স্ক্রলিং করতে স্মুথ লাগে। 144 হার্টজ রিফ্রেশ রেট গেমিংয়ের ক্ষেত্রে দারুণ স্মুথ পারফরম্যান্স।
  2. Display Active Matrix system যেখানে আলাদা আলাদা পিক্সেল করে ট্রান্সজিসটর দিয়ে কন্ট্রোল করা হয়। ডিসপ্লেতে স্ক্রিন খুব তাড়াতাড়ি রিফ্রেশ হয়ে কালার পাল্টায়। কোয়ালিটি দারুণ উজ্জ্বল ও পরিষ্কার।
  3. কোয়ালকম স্ন্যাপড্রাগনের 7s Gen 4 চিপসেট ব্যবহার করা হয়েছে। ইনফিনিক্সের আগের ফোনগুলির চেয়ে অনেক উন্নত মানের।
  4. 6500 ব্যাটারি ক্যাপাসিটি ও 90ওয়াটের চার্জার বলে দারুণ গুরুত্ব দেওয়া যায় ফোনটিকে।
  5. IceCore 3D  VC colling system উচ্চ মানের ভেপার চেম্বার কুলিং সিস্টেম যেখানে বেশিক্ষণ ধরে গেম খেললেও ফোনটি হিট হতে দেবে না সবসময় ঠাণ্ডা রাখার চেষ্টা করে। 3ডি পাইপের মাধ্যমে গরম হলে বাষ্প হয়ে হিট ছড়িয়ে দিতে পারে ফলে ঠাণ্ডা থাকে।

Cons

  1. 50 মেগাপিক্সেলের মেইন সেন্সর থাকলেও লো লাইটে ফ্ল্যাগশিপের মতো কাজ করতে পারে না। সেকেণ্ডারী ক্যামেরায় 8 মেগাপিক্সেলের ক্যামেরা খুবই সাধারণ মানের।
  2. ফোনে আগে থেকেই কিছু ডিফল্প অ্যাপ ইনস্টল করা থাকে যেগুলো ইউজারদের কাজে লাগে না। ফালতু ফালতু পড়ে থাকে ফোনের স্টোরেজ খেয়ে নেয়। XOS 16 ইন্টারফেস (UI) ব্য়বহার করে ঠিক আছে প্রিমিয়াম লুকের জন্য কিন্তু ডিফল্ট অ্যাপগুলি ঝামেলা বাড়িয়ে দেয়।
  3. বড়ো ব্যাটারির জন্য ফোনের ওজন বেড়ে যায়।
  4. অন্য ফোনগুলির মতো নয় এই ফোনে আপডেট খুব ধীরগতিতে হয়।

Pros

  1. Redmi Note 13 ফোনে AMOLED ডিসপ্লে ব্যবহার করার কারণে কালার, কনট্রাস্ট সব পারফেক্ট লাগে। স্ক্রিনে চারপাশে যে Bezel থাকে তা খুবই পাতলা অর্থাৎ স্ক্রিন বেশি দেখা যায়। 120 রিফ্রেশ রেট গেমিং স্মুথ হয়, ল্যাগ কম হয়, চোখে চাপ কম পড়ে।
  2. ফোনের ওভারঅল পারফরম্যান্স গেমের ক্ষেত্রে স্মুথ, ভিডিও রেকর্ডিং স্টেবল, মাল্টিটাস্কিং ভালো হয়।
  3. মেইন রিয়ার ক্যামেরা ও সেলফি বা ফ্রন্ট ক্যামেরার পারফরম্যান্স খুব ভালো।
  4. ফোনটিতে ধুলো বালি থেকে ও জল থেকে সুরক্ষার জন্য IP54 এবং সামনের স্ক্রিনে শক্ত গরিলা গ্লাস 5 প্রোটেকশন আছে।

Cons

  1. রেডমি নোট 13 ফোনে Ambient light অর্থাৎ পরিবেশে প্রাকৃতিকভাবে যে রঙ থাকে তা ঠিকমতো অ্যাডজাস্ট করতে দেরি হয় মানে সেন্সর স্লো ধরনের।
  2. স্ক্রিনের নীচে ফ্রিঙ্গারপ্রিন্ট নাই।
  3. HDR ভিডিও সাপোর্ট নাই, রেডমির অনেক ফোনে আছে কিন্তু রেডমি নোট 13 এ নাই। না থাকায় ভিডিও সাধারণ লাগে।
  4. এই ফোনের ব্য়াটারি ব্যাক আপ বেশি দিতে পারে না। আরও ভালো ব্যাটারি দিতে পারতো রেডমি নোট 13।
  5. ফুল এইচডি ভিডিও রেকর্ড করা যাবে কিন্তু OIS or EIS প্রযুক্তি নাই। তাই ভিডিও স্টেবল হবে না। নিজেকে হাত স্টেবল করে ভিডিও রেকর্ডিং করতে হবে।
  6. দুটি আলাদা স্পীকার নাই। তাই স্টিরিও সাউণ্ড পাওয়া যাবে না। সাউণ্ড ন্যাচারাল লাগবে না। থাকলে যুদ্ধের কোন গেম খেলার সময় পায়ের আওয়াজ এবং অন্য সাউণ্ড দুইই শোনা যেতো। বলতে গেলে অডিও কোয়ালিটি গড় মানের।

Which Phone is Better to Buy?

2026 সালে 13 এপ্রিল লঞ্চ হওয়া ইনফিনিক্স নোট 60 প্রো এবং 2024 সালে 4 জানুয়ারি লঞ্চ হয়েছে রে়ডমি নোট 13 ফোনটি। এই ফোন দুটির মধ্যে তুলনা করা হলে দেখা গেল ইনফিনিক্সের ব্যাটারি বড়ো ও ফিচারগুলির মধ্যে আপডেট আছে, কিছু বাড়তি ফিচার রয়েছে যেগুলো দারুণ গুরুত্বপূর্ণ। আবার রেডমির ক্যামেরা একটু ভালো মানের বিশেষ করে ডে লাইট ও লো লাইটে এর ভালো পারফরম্যান্স রয়েছে। কিন্তু একটা কথাই বলার আছে, আপনি যদি দামের দিক থেকে একটু ফ্ল্যাগশিপ মানের ফোন কিনতে চান তাহলে ইনফিনিক্স নোট 60 প্রো অনেকটাই দামের চেয়ে পারফরম্যান্স একটু হলেও বেশী পাওয়া যাবে। আর যদি আপনি ক্যামেরার দিক থেকে বাজেট ফোনের দিকে যেতে চান তাহলে রেডমি আপনার জন্য ভালো হবে। Infinix Note 60 Pro vs Redmi Note 13: Which One is Better in 2026? গেমিং, পারফরম্যান্স এবং বড়ো ব্যাটারির ব্যাক আপ নিতে চান তাহলে ইনফিনিক্স নোট 60 প্রো মোবাইলে যেতে পারেন আর ক্যামেরা কোয়ালিটি চান, সোশ্যাল মিডিয়া (ফেসবুক, ইনস্ট্রাগ্রাম) ইত্যাদিতে কাজ চালিয়ে যেতে চান এবং প্রতিদিন কাজগুলি সেরে নিতে চান তাহলে রেডমি নোট 13 যথেষ্ট আপনার জন্য।

FAQ (Infinix Note 60 Pro vs Redmi Note 13)

1. Is Infinix Note 60 Pro good for gaming?

উত্তর – হ্যাঁ, সাধারণ মোবাইল গেমের (PUBG, COD) ক্ষেত্রে ভালো কিন্তু ভারী গেমের ক্ষেত্রে একটু গরম হয়ে যাবে ফোন।

2. Redmi Note 13 camera good or bad?

উত্তর – রেডমি নোট 13 ফোনের ক্যামেরা ভালো, বিশেষ করে ডে লাইট ও লো লাইটে।

3. Which phone is better for daily use?

উত্তর – দৈনন্দিন কাজে রেডমি নোট 13 ফোনটি খুবই ভালো এবং ভরসাযোগ্য।

4. Infinix Note 60 Pro vs Redmi Note 13 which is best in 2026?

উত্তর – Infinix Note 60 Pro vs Redmi Note 13 এর বিচারে রেডমি ক্যামেরা ও ওভারঅল পারফরম্যান্সে খুব ভালো এবং ইনফিনিক্স ফোনটি ব্যাটারি ও ফিচারে খুব ভালো মানের।

About Author
Subhasis Ghosal

আমি ইলেকট্রনিক্স ও টেলিকমিউনিকেশন ইঞ্জিনিয়ারিং-এ ডিপ্লোমা শেষ করেছি। পাশাপাশি ওয়েব ডেভেলপমেন্ট, ডিজিটাল মার্কেটিং এবং CeTA-তে সার্টিফিকেট রয়েছে। আমি গত ১ বছর ধরে gaget60.com-এ পাঠকদের জন্য সহজ ও উপকারী তথ্যভিত্তিক টেক কনটেন্ট তৈরি করছি।

Leave a Comment